Vision & Logic
ঈশ্বরের নদী (Bengali Edition)
ঈশ্বরের নদী (Bengali Edition)
Couldn't load pickup availability
ঈশ্বরের নদী (Bengali Edition)
সুখের অনুসন্ধান
“কারণ জাতিদের সব দেবতাই মূল্যহীন মূর্তি, কিন্তু সদাপ্রভুই আকাশমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন।”
(গীতসংহিতা ৯৬:৫)
রেডিটে r/whatisthisthing নামে একটি সাবরেডিট আছে। এই কমিউনিটিতে মানুষ এমন সব জিনিসের ছবি পোস্ট করে, যেগুলো তারা খুঁজে পেয়েছে কিন্তু চিনতে পারছে না। অনেক জিনিসই বেশ আকর্ষণীয় ও ধাঁধার মতো মনে হয় যতক্ষণ না কেউ তার ব্যাখ্যা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যবহারকারী সমুদ্রসৈকতে পাওয়া একটি শক্ত, ডিমের মতো আকৃতির বস্তু ছবি শেয়ার করেছিলেন, যার ওপর “Maxer” শব্দটি খোদাই করা ছিল। শেষ পর্যন্ত কেউ এটিকে ডিমের বিকল্প (egg surrogate) হিসেবে শনাক্ত করে। মুরগি কখনও কখনও খিটখিটে হয়ে যায় এবং নিজের ডিম ভেঙে ফেলে, কিন্তু যখন আসল ডিমের জায়গায় এই বিকল্প ডিম রাখা হয়, তখন মুরগিটি মনে করে সে এখনও নিজের ডিমের ওপর বসে আছে এবং ডিম ভাঙা বন্ধ করে দেয়।
আরেকটি ঘটনায়, একজন ব্যবহারকারী একটি পুরোনো গোয়ালঘরের চূড়ার কাছে থাকা একটি ছোট “ঘর”-এর ছবি পোস্ট করেছিলেন। এর কোনো স্পষ্ট প্রবেশপথ ছিল না এবং এটি বেশ রহস্যময় মনে হচ্ছিল। পরে কেউ ব্যাখ্যা দেন যে এটি ছিল গোয়ালঘরের পেঁচার বাসা বাঁধার জায়গা; পেঁচা হলো এমন পাখি যারা ক্ষতি করে না বরং ইঁদুর খেয়ে উপকার করে।
এই উদাহরণগুলো একটি বড় সত্যকে তুলে ধরে: কোনো কিছুকে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে হলে জানতে হয় সেটি কিসের জন্য তৈরি। কোনো বস্তুর উদ্দেশ্য না জানলে, সেটি আসলে কী তা নির্ধারণ করা কঠিন। একই নীতি মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। একজন মানুষ কী তা বুঝতে হলে আমাদের জিজ্ঞেস করতে হবে: মানুষকে কিসের জন্য তৈরি করা হয়েছে?
কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে মানুষ কেবল অন্ধ বিবর্তনীয় শক্তির একটি দুর্ঘটনাজনিত ফল। যদি তা সত্য হয়, তবে জীবনের কোনো অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু কেবল সবচেয়ে নিবেদিত নাস্তিকরাই যেন এই উপসংহারে সত্যিই সন্তুষ্ট থাকতে পারেন। অধিকাংশ মানুষ স্বীকার করুক বা না করুক তবুও জানতে চায় আমরা কেন এখানে আছি।
কিছু দার্শনিক বলেন যে “জীবনের অর্থ” কথাটিই মৌলিকভাবে ভুল, কারণ তাদের মতে “অর্থ এবং জীবন” এই দুই শব্দ একসঙ্গে মানানসই নয়। কিন্তু এটা এমন, যেন কাঁদতে থাকা একটি শিশুকে বলা হচ্ছে, “তোমার মায়ের দরকার নেই। কাঁদা বন্ধ করো”। যুক্তি যতই চতুর হোক না কেন, অর্থের জন্য আমাদের আকাঙ্ক্ষা কেবল তাতে মিলিয়ে যায় না। কেউ যদি বলে যে এই অনুসন্ধানটাই অবৈধ, তাতেও আমরা খোঁজা বন্ধ করি না।
তার গ্রন্থ Nicomachean Ethics-এ অ্যারিস্টটল সুখকে মানবজীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রথমে কাজ এবং লক্ষ্য-এর মধ্যে পার্থক্য করেন। আমরা যে কাজগুলোর বেশিরভাগই করি, তা অন্য কিছুর জন্য করি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা টাকা উপার্জন করি টাকার জন্য নয়, বরং তা অন্য কাজে ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু অ্যারিস্টটলের মতে সুখ ভিন্ন; আমরা একে নিজের জন্যই চাই। তাই এটি সর্বোচ্চ মঙ্গল এবং জীবনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য।
অ্যারিস্টটল সুখের জন্য যে গ্রিক শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন তা হলো eudaimonia, যা এসেছে eu (ভাল) এবং daimon (দিব্য সত্তা বা আত্মা) থেকে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সুখ হলো দেবতাদের পক্ষ থেকে পাওয়া এক ধরনের অনুগ্রহ দিব্য সদিচ্ছার উপহার। এই ধারণাটি আধুনিক মানুষের সুখ-ভাবনার সঙ্গে তীব্রভাবে ভিন্ন।
আমাদের কাছে সুখ এমন কিছু নয় যা দেওয়া হয়; বরং এমন কিছু যার জন্য আমরা লড়াই করি, যা আমরা অর্জন করি। The Pursuit of Happyness চলচ্চিত্রের ক্রিস গার্ডনারের মতো, আমরা মনে করি সংগ্রাম ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে সুখকে তাড়া করতে হবে, যাতে একদিন পিছনে তাকিয়ে ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার মতো বলতে পারি, “আমি সবকিছুর মুখোমুখি হয়েছি, আমি দৃঢ় থেকেছি, আর আমার নিজের মতো করেই করেছি।
আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সুখ কেবল একটি লক্ষ্য নয়; এটি আমাদের স্বাধীনতা ও দৃঢ়সংকল্পের প্রমাণ। সুখকে নিস্ক্রিয়ভাবে গ্রহণ করার ধারণাই আমাদের প্রায় অপমানিত করে। কিন্তু অতীতে সুখকে মূলত পাওয়া জিনিস হিসেবেই দেখা হতো, দখল করে নেওয়ার কিছু হিসেবে নয়।
এমনকি ইংরেজি “happy” শব্দটিও এসেছে hap থেকে, যার অর্থ “ভাগ্য” বা “সৌভাগ্য” । জার্মান ভাষায় Glück শব্দটির অর্থ একসঙ্গে “ভাগ্য” এবং “সুখ” দুটোই। তাই ঐতিহাসিকভাবে সুখী হওয়া মানে ছিল ভাগ্যবান হওয়া।
কিন্তু আজ আমরা সেভাবে ভাবি না। আমরা সুখের জন্য পরিকল্পনা করি। আমরা সুখ অর্জনের জন্য ব্যবস্থা ও কৌশল গড়ে তুলি। আমাদের এই অনুসন্ধান এতটাই তীব্র যে বার্ট্রান্ড রাসেল একে একবার The Conquest of Happiness বলে বর্ণনা করেছিলেন।
অর্থ (Money)
আজ প্রায় সবাই একমত যে সুখের জন্য দুটি বিষয় অপরিহার্য: টাকা এবং ভালোবাসা। চলুন এদের নিয়ে ভাবি, শুরু করি টাকার কথা দিয়ে।
টাকা হলো মূল্যের সংকুচিত রূপ। জীবনের সবকিছুরই কোনো না কোনো মূল্য আছে, কিন্তু টাকা সেই মূল্যকে এমন এক রূপে ধরে রাখে যা সংরক্ষণ করা যায়, পরিমাপ করা যায় এবং বিনিময় করা যায়। এটি উপকারী, কারণ এটি সহজে ব্যবহারযোগ্য চিনির মতো, যার মধ্যে ক্যালোরি এমন এক রূপে থাকে যা সহজেই কাজে লাগে। এই সরলতা ও দক্ষতাই টাকাকে ভীষণ আকর্ষণীয় করে তোলে।
খ্রিস্টধর্ম ঐতিহাসিকভাবে টাকার প্রতি দুটি ভিন্ন মনোভাব পোষণ করেছে। ঐতিহ্যবাহী ক্যাথলিক শিক্ষায় দারিদ্র্যকে একটি গুণ হিসেবে দেখা হয়। সতীত্ব ও বিনয়ের পাশাপাশি এটিকে আধ্যাত্মিক ভক্তির একটি চিহ্ন হিসেবে ধরা হয়। এই ধারায়, টাকা ছাড়া জীবনযাপন (স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায়) পবিত্রতার একটি পথ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
অন্যদিকে, সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার যেমনটি দেখিয়েছেন, প্রোটেস্ট্যান্টরা সাধারণত টাকার ব্যাপারে আরও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখে। মেথডিজমের প্রতিষ্ঠাতা জন ওয়েসলি এই মনোভাবটি বিখ্যাতভাবে সংক্ষেপে বলেছেন:
যতটা পারো উপার্জন করো, যতটা পারো সঞ্চয় করো, যতটা পারো দান করো।
অধিকাংশ প্রোটেস্ট্যান্ট বিশ্বাস করেন যে সম্পদ যদি ঈশ্বরের মহিমার জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে তা লজ্জার কিছু নয়।
তবুও, এই দুই পদ্ধতিরই সমস্যা আছে। আমি দক্ষিণ কোরিয়ায় বড় হয়েছি—একটি দরিদ্র দেশ, যা আমার জীবদ্দশায় ধনী হয়ে উঠেছে। দারিদ্র্যে জীবনযাপন কেমন, আমি তা মনে করতে পারি। অতীতে দক্ষিণ কোরিয়া অসংখ্য সমস্যার মুখোমুখি ছিল: রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, অনুন্নত অবকাঠামো, এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব। কিন্তু অর্থনীতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যাগুলোর অনেকটাই সমাধান হয়েছে বা কমে গেছে যদিও নতুন সমস্যা, যেমন মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট, দেখা দিয়েছে।
অধিকাংশ দরিদ্র দেশ একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, শিশুদের স্কুলে যেতে না পারা, এবং মানুষ চিকিৎসাযোগ্য রোগে মারা যাওয়া। দারিদ্র্য প্রায়ই মানবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে, এজন্যই মিশনারিরা প্রায়ই অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে যুক্ত হন। দারিদ্র্য একটি আধ্যাত্মিক ফাঁদ হতে পারে যা মানুষকে আপস করতে, চুরি করতে, মিথ্যা বলতে, বা নিজের পরিবারকে অবহেলা করতে বাধ্য করে। হতাশ মানুষ বেশি করে মরিয়া ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকে। নির্দিষ্ট কিছু প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য ভক্তির প্রকাশ হতে পারে, কিন্তু এটি মানুষকে দুঃখ-কষ্টের এক চক্রেও আটকে ফেলতে পারে।
তা সত্ত্বেও, আজ খুব কম মানুষই স্বেচ্ছায় দারিদ্র্য গ্রহণ করে। অধিকাংশ মানুষ আরও বেশি আয় করতে চায় এবং দ্রুত। তারা রাতারাতি ধনী হয়ে যাওয়া মানুষের গল্পে মুগ্ধ হয় লটারি জেতা, ১৯৯০-এর দশকে প্রযুক্তি স্টার্টআপে বিনিয়োগ, বা আজকের দিনে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ঝাঁপিয়ে পড়া। দ্রুত সম্পদের এই ক্ষুধা প্রায়ই মানুষকে প্রতারণা বা ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
এমনকি সাধারণ অর্থনৈতিক প্রচেষ্টাও চাপভরা। ব্যবসায়ীরা সারাক্ষণ চাপ, ঝুঁকি ও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন। সম্পদের পেছনে ছুটতে গিয়ে ঈশ্বরকে চোখের আড়াল করা খুবই সহজ। এ কারণেই পৌল একটি কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছিলেন:
“কারণ অর্থের প্রতি ভালোবাসা সব রকমের অকল্যাণের একটি মূল। এই লালসার কারণেই কেউ কেউ বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং নিজেরাই নিজেদের বহু যন্ত্রণায় বিদ্ধ করেছে”।
(১ তীমথিয় ৬:১০)
পুঁজিবাদ এমন একটি ব্যবস্থা, যা আকাঙ্ক্ষা দ্বারা চালিত। মানুষ যদি আরও বেশি চাইতে বন্ধ করে দেয়, তাহলে অর্থনীতি থেমে যাবে। তাই আমাদের ক্রমাগত লালসা করতে উৎসাহিত করা হয়: নতুন ফোন, বড় বাড়ি, দ্রুত গাড়ি। বিজ্ঞাপন প্রতিদিন ফিসফিস করে এই আকাঙ্ক্ষাগুলো আমাদের কানে ঢেলে দেয়, আমাদের বোঝায় যে আমাদের আরও দরকার। আর একবার আমরা তা বিশ্বাস করলে বুঝতে পারি এই সব পেতে হলে আমাদের আরও টাকা দরকার। শেষ পর্যন্ত, পৌলের ভাষায়, এভাবেই আমরা “বহু যন্ত্রণায় বিদ্ধ”” হয়ে পড়ি।
টাকার উপকারিতা ও সীমাবদ্ধতা
এর বিপদ থাকা সত্ত্বেও, টাকা নানা কারণে আকর্ষণীয়। প্রথমত, এটি ছোট ছোট আনন্দ দেয়। আপনি যদি আশা করেন যে টাকা আপনাকে বিশাল আনন্দ দেবে, তাহলে সম্ভবত আপনি হতাশ হবেন। গভীর আনন্দ প্রায়ই কষ্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে। Phaedo গ্রন্থে সক্রেটিস যেমন লক্ষ্য করেছিলেন, “আনন্দ এবং বেদনা একটি মাথায় একসঙ্গে যুক্ত”।
খাবার, মদ বা মাদকের মতো জিনিসে অতিরিক্ত আসক্তি শেষ পর্যন্ত যন্ত্রণা ডেকে আনে। কিন্তু টাকা ছোটখাটো আনন্দ কিনতে পারে: ভালো এক কাপ কফি, একটি সুন্দর পোশাক, বা একটি নতুন ফোন। এগুলো জীবন বদলে দেওয়ার মতো নয়, কিন্তু তবুও উপভোগ্য।
দ্বিতীয়ত, টাকা ছোট সমস্যার সমাধান করে। আপনি যখন গরিব হন, তখন ছোট জিনিসও অসহনীয় মনে হতে পারে। ভিত্তোরিও দে সিকার চলচ্চিত্র Bicycle Thieves-এ, একজন মানুষের সাইকেল চুরি হয়ে যায়। যেহেতু তার চাকরি সেই সাইকেলের ওপর নির্ভরশীল, তাই সাইকেল হারানো মানে তার পুরো পরিবার দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়া। এটি একটি সংকট । গরিব মানুষের ক্ষেত্রে, যেকোনো কিছু খুব দ্রুত সংকটে পরিণত হতে পারে।
একবার আমার এক বন্ধু উপহার বিনিময়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেনি, কারণ তার কাছে একটি ছোট উপহার কেনার মতো টাকাও ছিল না। যা আনন্দের হওয়ার কথা ছিল, সেটাই তার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমি নিজেও আমার তরুণ ও দরিদ্র সময়ের কথা মনে করতে পারি। একদিন আমি মজা করার জন্য একটি দলের সঙ্গে ভ্যানে করে সুপারমার্কেটে গিয়েছিলাম, যদিও আমার কাছে কিছু কেনার মতো টাকা ছিল না। আমি বুঝতেই পারিনি যে যাতায়াতের জন্য পঞ্চাশ টাকা দিতে হবে। লজ্জিত হয়ে এবং দিতে না পেরে, আমি নেমে হেঁটে বাড়ি ফিরে যাই। এইধরনের অস্বস্তি অল্প একটু টাকা থাকলেই এড়ানো যেত। এমন মুহূর্তে, “টাকা সবকিছুর জবাব দেয়” (উপদেশক ১০:১৯) — এই কথাটি সত্য বলেই মনে হয়।
তৃতীয়ত, টাকা সুখ আনে—অন্তত আপনি যদি গরিব হন। যখন আপনার খুব কম থাকে, তখন টাকা সত্যিই আপনার জীবনের মান উন্নত করে। কিন্তু একবার আপনি যথেষ্ট থাকার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। এটি সুপরিচিত যে আয় একটি নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছালে (প্রতি বছর প্রায় ৭৫,০০০ থেকে ১,০০,০০০ ডলার), আয় বাড়লেও সুখ বাড়ে না। ধনী দেশগুলোতে মানুষ শুধু ধনী বলেই সুখী নয়; এটা তাদের কাছে স্বাভাবিক। বরং তারা প্রায়ই যা আছে তা হারানোর ভয়ে থাকে। তাদের কাছে টাকা আনন্দের চেয়ে উদ্বেগের উৎস হয়ে ওঠে।
জীবনের কিছু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে টাকার স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, এটি ভালো সম্পর্কের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। দ্য বিটলস যেমন বলেছিল, money can’t buy me love”—টাকা ভালোবাসা কিনতে পারে না।
নিশ্চয়ই, কিছু নারী সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়, কিন্তু সম্পর্ককে এভাবে দেখা অত্যন্ত সরলীকৃত। কেউ যদি আপনাকে আপনার টাকার জন্য ভালোবাসে, তাতেও কোনো নিশ্চয়তা নেই যে সেই ভালোবাসা টিকে থাকবে। সন্তানের ক্ষেত্রে টাকা আরও কম সাহায্য করে। আপনি ভাবতে পারেন যে আপনার আর্থিক সহায়তার জন্য আপনার সন্তানরা কৃতজ্ঞ হবে, কিন্তু প্রায়ই তা হয় না। ভালোবাসা কেনা যায় না।
দ্বিতীয়ত, টাকা ভালো স্বাস্থ্য বা দীর্ঘায়ুর নিশ্চয়তা দিতে পারে না। এটি আপনাকে উন্নত চিকিৎসা পেতে সাহায্য করতে পারে, এবং পরিসংখ্যান দেখায় যে ধনী মানুষ গড়ে বেশি দিন বাঁচে। উদাহরণস্বরূপ, কোটিপতিদের দেশ মোনাকোতে গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি। কিন্তু টাকা স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে না। ধনী মানুষও দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় অল্প বয়সে মারা যায়, এবং কোনো সম্পদই তা ঠেকাতে পারে না।
তৃতীয়ত, আইনি বিষয়ে টাকার ক্ষমতা সীমিত। একজন ভালো আইনজীবীর জন্য হয়তো প্রচুর টাকা খরচ হতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি নিশ্চিতভাবে জেল থেকে বাঁচবেন। আদর্শভাবে, আইন নিরপেক্ষ হওয়ার কথা ধনী ও গরিবকে সমানভাবে বিচার করা। আদালতে, টাকা আপনাকে আপনার কাজের আইনি পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পারে না।
সুতরাং, টাকা উপকারী এবং জীবনকে আরও আরামদায়ক করতে পারে, কিন্তু এটি সর্বশক্তিমান নয়। যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, তা এটি কিনতে পারে না। তবুও, ধনী হওয়া নিজেই ভুল নয়। পৌল ধনী মানুষদের সবকিছু ছেড়ে দিতে বলেননি। বরং তিনি তাদের শিখিয়েছিলেন কীভাবে তাদের সম্পদের সঙ্গে ভালোভাবে বাঁচতে হয়:
“এই বর্তমান যুগের ধনীদের আদেশ দাও—তারা যেন অহংকারী না হয়, এবং অনিশ্চিত ধনের ওপর নয়, বরং ঈশ্বরের ওপর তাদের আশা স্থাপন করে; কারণ তিনিই আমাদের ভোগের জন্য সবকিছু প্রচুরভাবে দেন। তারা যেন সৎকর্ম করে, সৎকর্মে ধনী হয়, উদার ও ভাগ করে নিতে প্রস্তুত থাকে; এভাবে তারা ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের জন্য একটি উত্তম ভিত্তি সঞ্চয় করে, যাতে তারা সেই প্রকৃত জীবনের অধিকারী হতে পারে”। (১ তীমথিয় ৬:১৭-১৯)
প্রথমত, ধনী খ্রিস্টানদের অহংকার এড়িয়ে চলতে হবে। অনেক ধনী মানুষ মনে করে যে শুধু টাকার কারণেই তাদের মতামত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পৌল বিশ্বাসীদের এই মনোভাবের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। দ্বিতীয়ত, তাদের সম্পদের ওপর ভরসা করা উচিত নয়, কারণ ধন অস্থির। ইউজিন পিটারসন The Message-এ যেভাবে বলেছেন, টাকা হলো
আজ আছে, কাল নেই।
আমাদের আশা থাকা উচিত ঈশ্বরের ওপর, যিনি উদারভাবে আমাদের উপভোগের জন্য সবকিছু দেন। শেষত, ধনীদের উদার হতে হবে। তাদের সম্পদ অন্যদের আশীর্বাদ করার জন্য দেওয়া এক উপহার। আমি এমন অনেক খ্রিস্টানকে চিনি যারা এটি ভালোভাবে করে মিশনে সহায়তা করা, সেবাকাজে অর্থ দেওয়া, এবং প্রয়োজনীয়দের সাহায্য করা। তারা পৃথিবীতে ঈশ্বরের কাজে এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
যেহেতু সম্পদ ও দারিদ্র্য উভয়ই আধ্যাত্মিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে, তাই আগুর প্রার্থনা করেছিলেন:
আমার থেকে মিথ্যা ও অসত্য দূর করো; আমাকে গরীব বা ধনী কর না; আমার জন্য যা প্রয়োজন সেই খাদ্যই আমাকে দাও, পাছে আমি পরিপূর্ণ হয়ে তোমাকে অস্বীকার করি এবং বলি, ‘প্রভু কে?’ অথবা পাছে আমি দরিদ্র হয়ে চুরি করি এবং আমার ঈশ্বরের নাম অপমান করি। (হিতোপদেশ ৩০:৮-৯)
পৌল, যিনি সম্ভবত একটি ধনী পটভূমি থেকে এসেছিলেন,যীশুর সেবায় দারিদ্র্যসহ বহু কষ্ট সহ্য করেছিলেন। তিনি যখন রোমে বন্দি ছিলেন, তখন ফিলিপ্পীর মণ্ডলীর বিলম্বিত সহায়তা ছাড়া কোনো গির্জাই তাকে আর্থিক সাহায্য করেনি (ফিলিপ্পীয় ৪:১৫)। এটি একটি গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করেছিল, কারণ রোমীয় কারাগারে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না; বন্দিদের বন্ধু ও পরিবারের পাঠানো খাবারের ওপর নির্ভর করতে হতো। বহু বছরের বিশ্বস্ত সেবার পর, পৌল নিজেকে দরিদ্র অবস্থায় এবং সম্ভাব্য অনাহারের মুখে দেখতে পেলেন। তবুও তিনি নিজের কষ্ট নিয়ে আক্ষেপ করেননি। ফিলিপ্পীয়দের প্রতি তার ধন্যবাদপত্রে তিনি লিখেছিলেন:অ
“আমি যে অভাবে আছি, তা বলার জন্য নয়; কারণ যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকতে আমি শিখেছি। কীভাবে নীচু অবস্থায় থাকতে হয়, তাও জানি; আবার কীভাবে প্রাচুর্যে থাকতে হয়, তাও জানি। সব পরিস্থিতিতে পরিপূর্ণতা ও ক্ষুধা, প্রাচুর্য ও অভাব সবকিছুর মধ্যেই আমি গোপন রহস্য শিখেছি। যিনি আমাকে শক্তি দেন, তাঁর দ্বারা আমি সবকিছু করতে পারি”। (ফিলিপ্পীয় ৪:১১-১৩)
পৌল দারিদ্র্য ও সম্পদ দুটোর প্রতিই সমানভাবে উদাসীন ছিলেন, কারণ ঈশ্বরের মাধ্যমে তিনি যেকোনো অবস্থার মুখোমুখি হতে পারতেন
ভালোবাসা
মানুষ সুখের খোঁজে আরেকটি বড় যে বিষয়টি অনুসরণ করে, তা হলো ভালোবাসা। সি. এস. লুইস উল্লেখ করেছিলেন যে রোমান্টিক ভালোবাসা সম্পর্কে আমাদের আধুনিক ধারণার উৎস মূলত দ্বাদশ শতাব্দীর ফ্রান্সের “কোর্টলি লাভ” (রাজকীয় প্রেম) প্রথা। তার আগে ভালোবাসাকে প্রায়ই দেখা হতো হয় এক ধরনের বিপজ্জনক উন্মাদনা হিসেবে (যা সাধারণত সংবেদনশীল মানুষদের বিশেষ করে নারীদের অপরাধ ও অপমানে ঠেলে দিত, যেমন মেডিয়া বা ডিডোর ট্র্যাজেডিতে দেখা যায়), অথবা এক ধরনের হালকা, রসিক বিনোদন হিসেবে, যেমন ওভিডের রচনায় ফুটে উঠেছে। তখন ভালোবাসাকে জীবনের কেন্দ্রীয় বা মহৎ অংশ হিসেবে ধরা হতো না।
কিন্তু মধ্যযুগীয় ইউরোপে এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে। দক্ষিণ ফ্রান্সের ট্রুবাডুর কবিরা এক ভিন্ন ধরনের ভালোবাসার গান গাইতে লাগলেন যা ছিল আদর্শিক, আবেগপূর্ণ এবং মহৎ। এই রাজকীয় প্রেম রোমান্টিক আকাঙ্ক্ষাকে সুন্দর এমনকি আত্মিক কিছুর পর্যায়ে উন্নীত করেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পশ্চিমা সংস্কৃতিতে ভালোবাসা সম্পর্কে মানুষের ধারণাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
আধুনিক সময়ে ভালোবাসা মানুষের কল্পনায় আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে যখন এটি বিয়ের সঙ্গে যুক্ত হলো। মানব ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়ে বিয়ে ছিল মূলত একটি পারিবারিক বিষয়। সঙ্গী নির্বাচন করা হতো পারিবারিক স্বার্থের ভিত্তিতে, ব্যক্তিগত অনুভূতির ভিত্তিতে নয়। আসলে, আধুনিক যুগের আগে কোরিয়ায় অনেক দম্পতি তাদের বিয়ের দিনেই প্রথম একে অপরকে দেখত। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীতে, পশ্চিমা বিশ্বে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ব্যক্তিগত আবেগ ও রোমান্টিক আকর্ষণের ভিত্তিতে জীবনসঙ্গী বেছে নিতে শুরু করে। আজ আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি, যেখানে ভালোবাসা শুধু মূল্যবান নয়—বরং পূজিত। মানুষ বলে তারা “ভালোবাসাকে ভালোবাসে” এবং সত্যিই বিশ্বাস করে যে যদি তারা সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে পায়, তাহলে আর কিছুই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে না। এই সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ভালোবাসা হয়ে ওঠে সর্বোচ্চ কল্যাণ।
ভালোবাসার বিবর্তন
যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না, তাদের জন্য বিবর্তনমূলক মনোবিজ্ঞান একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়-কেন আমরা নির্দিষ্ট ধরনের মানুষের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করি। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, আমরা জৈবিকভাবে এমনভাবে গঠিত যে বিপরীত লিঙ্গের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের প্রতি আকৃষ্ট হই, কারণ সেই বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের সফলভাবে বংশবিস্তার করতে সাহায্য করেছিল।
উদাহরণস্বরূপ, এমন একজন পুরুষকে ধরুন যিনি শুধু সন্তান ধারণের বয়স পেরিয়ে যাওয়া নারীদের প্রতিই আকৃষ্ট হন। জেনেটিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই ধরনের পছন্দ ভবিষ্যৎ প্রজন্মে পৌঁছাত না, কারণ ওই নারীরা সন্তান ধারণ করতে পারতেন না। বিপরীতে, যারা তরুণ, সুস্থ ও সন্তান ধারণে সক্ষম নারীদের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন, তারা তাদের জিন ছড়িয়ে দেওয়ার বেশি সুযোগ পেয়েছিলেন। ফলে পুরুষরা মূলত তাদেরই বংশধর, যারা যৌবন ও সৌন্দর্যকে পছন্দ করতেন - যা উর্বরতা ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত বৈশিষ্ট্য। এজন্যই পুরুষরা সাধারণত তরুণ ও সুন্দর নারীদের প্রতি আকৃষ্ট হন; এটি একটি স্বভাবজাত সংকেত, যা সফল বিবর্তনমূলক কৌশলের প্রতিফলন।
নারীদের ক্ষেত্রে সঙ্গী নির্বাচনের বৈশিষ্ট্যগুলো কিছুটা ভিন্ন। যারা অদক্ষ বা আবেগগতভাবে অনুপস্থিত পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হতেন, তারা টিকে থাকতে বা সন্তান প্রতিপালনে বেশি সমস্যায় পড়তেন। অন্যদিকে, যারা দক্ষ, সংবেদনশীল ও নির্ভরযোগ্য সঙ্গী পছন্দ করতেন, তারা বেশি সহায়তা পেতেন, যত্ন লাভ করতেন এবং সন্তানদের সফলভাবে বড় করতে পারতেন।
সুতরাং আমরা জৈবিকভাবেই সঙ্গীর মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট গুণ খুঁজে নিতে প্রোগ্রামড। আর যখন আমরা সেই গুণগুলো খুঁজে পাই, তখন আমরা আনন্দ অনুভব করি। সেই আনন্দই-অর্থাৎ প্রেমে পড়ার অনুভূতি-একটি বিবর্তনমূলক পুরস্কার।তাই আপনি এটিকে ঈশ্বরীয় পরিকল্পনা বলুন বা বিবর্তনগত প্রোগ্রামিং-একটি বিষয় স্পষ্ট: আমরা ভালোবাসতে ভালোবাসি। আমরা শুধু বাস্তব জীবনে ভালোবাসা খুঁজি না, বরং সিনেমা ও টেলিভিশনে ভালোবাসা নিয়ে অসংখ্য গল্পও উপভোগ করি। জনপ্রিয় সিনেমা ও টিভি শোগুলো প্রায়ই আমাদের কল্পনাকে প্রতিফলিত করে।
উদাহরণ হিসেবে নটিং হিল সিনেমাটির কথা ধরা যাক-এটি এক সাধারণ পুরুষের কল্পকাহিনি, যে হঠাৎ করে এক গ্ল্যামারাস চলচ্চিত্র তারকার সঙ্গে দেখা পায়, এবং শেষ পর্যন্ত সেই নারী তার প্রতি গভীর ও নিঃশর্তভাবে প্রেমে পড়ে। একইভাবে, দ্য বিগ ব্যাং থিওরি দেখায় সামাজিকভাবে অস্বচ্ছন্দ নার্ডদের, যারা এমন সঙ্গী খুঁজে পায় যারা তাদের ভালোবাসে, বোঝে এবং আদর করে।
হাউ আই মেট ইয়োর মাদার-এ, প্রধান চরিত্রটি শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারে যে তার প্রকৃত ভালোবাসা সেই সেরা বন্ধু, যে শুরু থেকেই তার পাশে ছিল। আর ফ্রেন্ডস সিরিজটি ছয় জন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে ঘিরে আবর্তিত, যাদের মধ্যে চারজন শেষ পর্যন্ত একে অপরকে বিয়ে করে।
এই সিনেমা ও শোগুলো আমাদের কাছে আকর্ষণীয় লাগে বাস্তবতাকে হুবহু দেখানোর জন্য নয়, বরং আমরা যা ঘটতে চাই—তা তুলে ধরার জন্য। বাস্তব ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে, কিন্তু এই কল্পনার জগৎ আমাদের আকাঙ্ক্ষার এক ঝলক দেখায়। আর যদি আমরা নিজেরা তা অনুভব নাও করি, তবু অন্তত পর্দায় অন্যদের ভালোবাসা খুঁজে পেতে দেখে আমরা আনন্দ ও সান্ত্বনা পাই।
অর্থ ও ভালোবাসার মোহ
গ্রিক পুরাণে ট্রয়ের রাজপুত্র প্যারিসের একটি গল্প আছে। তাকে তিন দেবীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরীকে বেছে নিতে বলা হয়েছিল। প্রত্যেক দেবী তাকে বিনিময়ে কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—ক্ষমতা, জ্ঞান অথবা ভালোবাসা। প্যারিস ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেবী আফ্রোদিতিকে বেছে নেয়। এই নির্বাচনটি অনেক কিছু বলে। এটি ইঙ্গিত করে যে, সুযোগ পেলে মানুষ ক্ষমতা বা জ্ঞানের চেয়ে ভালোবাসাকেই বেশি মূল্য দেয়।
আফ্রোদিতির পূজা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপকভাবে হতো। গ্রিসে তিনি আফ্রোদিত, রোমে ভেনাস এবং মেসোপটেমিয়ায় ইশতার নামে পরিচিত ছিলেন। কানানে তাকে বলা হতো অষ্টারোৎ। বাইবেলে লেখা আছে যে যিহোশুয়ার মৃত্যুর পর, “তারা প্রভুকে ত্যাগ করে বাল ও অষ্টারোৎর সেবা করতে লাগল” (বিচারকগণ ২:১৩) ।
কানানে ঈশ্বরের আলো বহন করার জন্য ডাকা হলেও, ইস্রায়েল জাতি বরং কানানীয় ধর্মের প্রভাবে পড়ে তাদের দেবতাদের উপাসনা শুরু করে। বাল ছিল ঝড়ের দেবতা, যাকে উর্বরতার সঙ্গে যুক্ত করা হতো এবং ভালো ফসলের মাধ্যমে সম্পদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। আর অষ্টারোৎ—ভালোবাসার দেবী—রোমান্টিক প্রেম ও যৌন তৃপ্তির প্রতিশ্রুতি দিত। প্রলোভন ছিল প্রবল: এই দেবতাদের পূজা করো, আর পাবে সম্পদ ও ভোগ।
আজ কি বিষয়টা একেবারেই আলাদা? আধুনিক সমাজ এখনও একই প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। তুমি যদি তার পথ অনুসরণ করো, যদি তুমি এই জগতের “দেবতা”-কে উপাসনা করো, তাহলে পুরস্কার হিসেবে পাবে টাকা আর ভোগ। আকর্ষণটা বদলায়নি; শুধু তার মোড়ক বদলেছে।
অ্যানিমিজম (প্রকৃতিপূজা) এই প্রতিশ্রুতিকে ধারণ করা ধর্মের একটি রূপ। এটি খুবই সহজ ও সরল: প্রকৃতির মধ্যে দেবতাদের প্রতিনিধিত্ব করতে মূর্তি ব্যবহার করা হয়, আর সেই দেবতাদের মাধ্যমে মানুষ সম্পদ, সুখ ও সুরক্ষা খোঁজে। পৌল যখন রোমীয়দের প্রতি লেখা তাঁর পত্রে পদ্ধতিগতভাবে সুসমাচার ব্যাখ্যা করেন, তখন তিনি শুরু করেন অ্যানিমিজমের মূর্তিপূজার মোকাবিলা করে—
“জ্ঞানী বলে নিজেদের দাবি করে তারা মূর্খ হয়ে গেল, এবং অমর ঈশ্বরের মহিমা বদলে দিল মরণশীল মানুষের, পাখির, পশুর ও সরীসৃপের মতো প্রতিমূর্তির সঙ্গে।” (রোমীয় ১:২২–২৩)
এন. টি. রাইট যুক্তি দেন যে এই অংশটি দেখায়—মূর্তিপূজাই মানুষের মৌলিক পাপ। ইতিহাস জুড়ে প্রতিটি সংস্কৃতিতেই মূর্তিপূজা পাওয়া যায়। কেন? কারণ এটি মূলত ভালো কোনো বিষয়ের বিকৃতি। পৌল লেখেন,
“কারণ তাঁর অদৃশ্য গুণাবলি—অর্থাৎ তাঁর চিরন্তন শক্তি ও ঈশ্বরত্ব—জগতের সৃষ্টিলগ্ন থেকে সৃষ্ট বস্তুগুলোর মধ্যে স্পষ্টভাবে উপলব্ধ হয়েছে।” (রোমীয় ১:২০)
ঈশ্বর প্রকৃতির মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেছেন, এই উদ্দেশ্যে যে মানুষ সৃষ্টির মহিমা দেখে স্রষ্টাকে খুঁজবে। কিন্তু ঈশ্বরকে উপাসনা করার পরিবর্তে তারা সৃষ্টিকেই উপাসনা করল। তারা মূর্তি বানাল—“যা মরণশীল মানুষ, পাখি, পশু ও সরীসৃপের মতো।”
এই জগতের দেবতারা
অ্যানিমিজমের অনেক নাম আছে। যখন এতে বহু দেবতার ধারণা থাকে, তখন আমরা একে বলি বহুদেববাদ (পলিথিইজম)। যখন এটি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চর্চিত হয়, তখন একে লোকধর্ম বলা হয়। আর যখন এটি ইহুদি খ্রিস্টীয় জগতের বাইরে চর্চিত হয়, তখন একে পৌত্তলিকতা বলা হয়। কিন্তু যেহেতু এই সব রূপেই প্রকৃতিকে জীবন্ত করে তোলা আত্মাদের প্রতি বিশ্বাস থাকে, তাই আমরা এখানে “অ্যানিমিজম” শব্দটাই ব্যবহার করব।
আজও বহু অ্যানিমিস্টিক চর্চা আমাদের জীবনের অংশ, যদিও আমরা সব সময় তা চিনতে পারি না। সপ্তাহের দিনগুলোর নাম অ্যানিমিস্টিক দেবতাদের নামে রাখা হয়েছে; যেমন—Thursday এসেছে থর (Thor) থেকে, আর ইতালীয় ভাষায় Giovedì (এটিও Thursday) এসেছে জুপিটার (Jupiter) থেকে। ক্রিসমাস ট্রি, যা এখন ছুটির দিনের একটি সাধারণ অনুষঙ্গ, তার উৎস গাছপূজায়। বাইবেল কখনও ক্রিসমাসকে গাছের সঙ্গে যুক্ত করে না, কিন্তু গাছপূজা এতটাই বিস্তৃত ছিল যে তা খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যকে প্রভাবিত করেছে।
নিউ এজ আন্দোলন আজকের দিনে অ্যানিমিজমের (প্রাণবাদ) এক ধরনের আধ্যাত্মিক বাজার। এটি হিন্দুধর্ম ও প্রাচীন ইউরোপীয় জাদুবিদ্যা থেকে শুরু করে যোগব্যায়াম, বিকল্প চিকিৎসা ও ধ্যান—সবকিছুরই মিশ্রণ। এটি আকর্ষণীয় কারণ এটি অ্যানিমিজম থেকে গভীরভাবে প্রভাব গ্রহণ করে, যা মানুষের আত্মার ওপর এখনও শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
কারণ অ্যানিমিজম এই জীবনে ভালো জিনিস পাওয়ার ওপর জোর দেয়, তাই এতে প্রায়ই ভবিষ্যৎ বলার বিভিন্ন পদ্ধি অন্তর্ভুক্ত থাকে। যদি আপনি ভবিষ্যৎ জানতে পারেন, তাহলে বিপর্যয় এড়াতে বা সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন। জ্যোতিষবিদ্যা এর একটি ক্লাসিক উদাহরণ। এটি শেখায় যে তারকারা উচ্চতর সত্তা হিসেবে মানুষের ভাগ্যকে প্রভাবিত করে। শেক্সপিয়র রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট নাটকে এই বিশ্বাস প্রতিফলিত করেছেন, যখন তিনি তাদের “তারকা-বিধ্বস্ত প্রেমিক” (star-cross’d lovers) বলে উল্লেখ করেন। এই ধারণা প্রাচীন হলেও আজও জীবিত। মানুষ সংবাদপত্র ও অনলাইনে রাশিফল পড়ে। কেউ কেউ ব্যক্তিত্ব বোঝার জন্য বা প্রেমের সামঞ্জস্যতা নির্ধারণ করতে রাশিচক্রের চিহ্ন ব্যবহার করে।
অগাস্টিন, এমন এক সময়ে বাস করতেন যখন জ্যোতিষবিদ্যা ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল, কিন্তু তিনি এর প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, “যদি যমজ সন্তান একই তারকার নিচে জন্মায়, তবে তাদের জীবন কেন এত ভিন্ন হয়?” তিনি আরও সমালোচনা করেছিলেন যে জ্যোতিষবিদ্যা নৈতিক দায়িত্ববোধকে দুর্বল করে; এতে মানুষ মনে করে তাদের কাজকর্ম তারকার দ্বারা নির্ধারিত, নিজের সিদ্ধান্তের দ্বারা নয়।
পূর্ব এশীয় সংস্কৃতিতে বিশেষভাবে প্রচলিত পূর্বপুরুষ পূজাও অ্যানিমিজমের আরেকটি রূপ। এই অঞ্চলে পূর্বপুরুষদের প্রায় দেবতার মতো সম্মান করা হয়। মানুষ আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য তাদের খাদ্য নিবেদন করে। অনুগ্রহের বিনিময়ে খাদ্য নিবেদন করার এই ধারা অ্যানিমিজমের একটি ক্লাসিক উদাহরণ। কনফুসিয়ানিজম এটিকে আরও দার্শনিক ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে, কিন্তু এর শিকড় একই রয়ে গেছে।
সুখী ও আশীর্বাদপ্রাপ্ত
অ্যানিমিজম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে সবচেয়ে গভীর পার্থক্যটি রয়েছে তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে। অ্যানিমিজম মানুষের জন্য বিদ্যমান; এর দেবতারা মানুষের সমৃদ্ধি, ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য এনে দেওয়ার উপকরণ। বিপরীতে, খ্রিস্টধর্ম ঈশ্বরের জন্য বিদ্যমান। এর উদ্দেশ্য মানুষের স্বস্তি নয়, বরং ঈশ্বরের মহিমা।
অনেক মানুষ এটি গুলিয়ে ফেলে। তারা মনে করে খ্রিস্টধর্ম আশীর্বাদ পাওয়ার একটি উপায়। তারা বিশ্বাস করে, যদি তারা ঈশ্বরকে (বা আরও বেশি করে গির্জা বা যাজককে) কিছু দেয়, তবে ঈশ্বর তাদের অর্থ, সুস্থতা বা সম্পর্ক দিয়ে পুরস্কৃত করবেন। কিন্তু সেটাই সুসমাচার (গসপেল) নয়।
অনেক খ্রিস্টান ‘সমৃদ্ধির সুসমাচার’ প্রচার করেন, যা ধনসম্পদ ও সুস্বাস্থ্যের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু যীশুকে অনুসরণ করার অর্থ প্রায়ই যন্ত্রণা ও দুঃখভোগ। তাই পৌল বলেছিলেন, “নিশ্চয়ই যারা খ্রিস্ট যীশুতে ধার্মিক জীবন যাপন করতে চায়, তারা সকলেই নির্যাতিত হবে।” (২ তীমথিয় ৩:১২)
যীশু কখনো বলেননি, “আমাকে অনুসরণ করো, তাহলেই তুমি সুখী হবে।” বরং তিনি শেখালেন সত্যিকার অর্থে আশীর্বাদপ্রাপ্ত হওয়ার মানে কী। আর তাঁর তালিকাটি ছিল বিস্ময়কর—
ধন্য তারা, যারা আত্মায় দরিদ্র, কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই।
ধন্য তারা, যারা শোক করে, কারণ তারা সান্ত্বনা পাবে।
ধন্য তারা, যারা নম্র, কারণ তারা পৃথিবীর অধিকারী হবে।
ধন্য তারা, যারা ধার্মিকতার জন্য ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত, কারণ তারা পরিতৃপ্ত হবে।
… ধন্য তারা, যারা ধার্মিকতার জন্য নির্যাতিত হয়, কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই।” (মথি ৫:৩–১০)
এদের দেখে সুখী মানুষ বলে মনে হয় না। তবুও যীশুর মতে, তারাই প্রকৃত অর্থে ধন্য। পার্থিব মানদণ্ডে তারা সফল নাও হতে পারে, কিন্তু তারা ঈশ্বরের রাজ্যের অংশ, আর সেটাই তাদের ধন্য করে তোলে।
এখানে এক গভীর বৈপরীত্য আছে: সুখের পেছনে ছোটা খুব কম ক্ষেত্রেই সত্যিকারের সুখ এনে দেয়। বরং যারা ঈশ্বরের সামনে বিশ্বস্তভাবে জীবনযাপন করে (যারা অন্যদের সেবা করে, দান করে, ত্যাগ স্বীকার করে), তারাই প্রায়ই প্রকৃত সুখ খুঁজে পায়। আজকের দুনিয়ায় সুখ অনেক সিদ্ধান্তের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো কিছু যদি সুখের প্রতিশ্রুতি দেয়, আমরা তা করি। আর যদি তা আমাদের আরামকে হুমকির মুখে ফেলে, আমরা তা এড়িয়ে চলি। এই কারণেই অনেকে বিয়ে বা সন্তান নেওয়া এড়িয়ে চলে। তারা স্বাধীনতা, অর্থ ও সময়ের খরচকে ভয় পায়। কিন্তু এসব ছাড়া কি তারা বেশি সুখী হয়? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে—না। অনেকেই বুঝতে পারে যে তাদের স্বাধীন, আত্মকেন্দ্রিক জীবন আসলে একাকী ও শূন্য মনে হয়।
অন্যদিকে, যারা পরিবারের কঠিন পথকে গ্রহণ করে, তারা প্রায়ই গভীর আনন্দ আবিষ্কার করে। বাবা-মায়েদের জিজ্ঞেস করুন—অনেকেই বলবে, “সন্তান হওয়া জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা।” অবশ্যই, সন্তান পালন কঠিন। এর মানে দেরি রাত পর্যন্ত জাগা, হাসপাতালে ছুটে যাওয়া, ঝগড়া, আর শেষ না হওয়া খরচ। কিন্তু ঈশ্বরের “ফলবান হও ও বংশবৃদ্ধি কর” (আদিপুস্তক ১:২৮) আদেশ মান্য করার মধ্যেই তারা আশীর্বাদ খুঁজে পায়। এমনকি যারা সচেতনভাবে ঈশ্বরের কথা ভাবে না, তারাও তাঁর পরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার ফলে যে আনন্দ আসে, তা অনুভব করে। পিতৃত্ব-মাতৃত্বের কষ্টের মধ্যেও তারা ধন্য হয়, আর সেই আশীর্বাদের মধ্যেই তারা সুখ খুঁজে পায়।
আমি মনে করি, যখন আমি যে খ্রিস্টীয় সংগঠনে এখনো সেবা করছি, সেখানে যোগ দিয়েছিলাম। আমার দাদু—যিনি একজন পালক ছিলেন, আবার বাস্তববাদী মানুষও—আমাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, “তুমি এমন কিছু করতে যাচ্ছ, যা শুধু আমেরিকার ধনী পরিবারগুলোর সন্তানরাই করতে পারে।” তিনি ভুল ছিলেন না। আমাদের সংগঠন বেতন দেয় না। আপনি যদি ধনী পরিবার থেকে না আসেন, তবে বিনা বেতনের খ্রিস্টীয় কর্মী হিসেবে জীবন অত্যন্ত কঠিন। তখন আমার পরিবার আর্থিকভাবে খুব কষ্টে ছিল এবং আমাকে সাহায্য করতে পারত না। অনেক সময় খাবার কেনার সামর্থ্য না থাকায় আমাকে ক্ষুধার্ত থাকতে হতো। এখন পরিস্থিতি কিছুটা ভালো, কিন্তু তবুও আমি ন্যূনতম মজুরির চেয়েও কম উপার্জন করি। তবুও আমার কোনো অনুশোচনা নেই। ঈশ্বরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি তাঁকে সেবা করার পথ বেছে নিয়েছি, এবং আমি তাঁর দ্বারা গভীরভাবে ভালোবাসা অনুভব করি। আমি যখন মারা যাব, তখন ঈশ্বরের সেবা করার জন্য কখনোই আফসোস করব না। বরং তাঁকে সেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্যই কৃতজ্ঞ থাকব।
যখন থমাস জেফারসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠাতা পিতারা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে “জীবন, স্বাধীনতা এবং সুখের অনুসরণ”-কে অবিচ্ছেদ্য অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, তখন তারা বিশ্বাস করেছিলেন যে এতে অসুখী মানুষরা সুখ অনুসরণের স্বাধীনতা পাবে। কিন্তু দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পরে মনে হয়, সুখের এই অনুসরণ অনেক মানুষকে আরও কম সুখী করে তুলেছে।
সত্যিকারের সুখ ধরা যায় না; তাকে গ্রহণ করতে হয়। যীশু বলেছেন—
“যে নিজের জীবন বাঁচাতে চায়, সে তা হারাবে; কিন্তু যে আমার জন্য নিজের জীবন হারায়, সে তা ফিরে পাবে।”
(মথি ১৬:২৫)
একইভাবে, যারা সুখের পেছনে ছুটে বেড়ায় তারা কখনোই তা খুঁজে পায় না। কিন্তু যারা সেই অনুসরণ ত্যাগ করে, যারা নিজেদের জন্য নয় বরং ঈশ্বরের জন্য জীবন যাপন করে, তারা প্রায়ই আবিষ্কার করে যে সুখ নিঃশব্দে, অপ্রত্যাশিতভাবে এবং এক উপহার হিসেবে তাদের জীবনে এসে গেছে।
রবিবারের বিশ্বাস আর সোমবারের বাস্তবতার মধ্যেকার ফাঁক পূরণ করুন। ঈশ্বরের দৃষ্টিতে জগৎ দেখার এক সতেজ, সংস্কৃতি-সংলগ্ন পথনির্দেশ।
আপনার আধ্যাত্মিক জীবন আর চারপাশের সংস্কৃতির মধ্যে কি বিচ্ছিন্নতা অনুভব করেন? আধুনিক চলচ্চিত্র, ডিজিটাল প্রযুক্তি বা আপনার পেশার জটিলতার সঙ্গে বাইবেল কীভাবে সম্পর্কিত, তা বোঝাতে কি অসুবিধা হয়?
ঈশ্বরের নদী বইয়ে কিম সিমিও এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেন যে বিশ্বাস মানে জগৎ থেকে সরে থাকা। বরং তিনি এক প্রাণবন্ত দৃষ্টি তুলে ধরেন, যেখানে “ঈশ্বরের নদী” মানব-অস্তিত্বের প্রতিটি ক্ষেত্রে — শিল্প ও বিজ্ঞান থেকে রাজনীতি ও লিঙ্গ পর্যন্ত — বয়ে চলে।
শুকনো অ্যাকাডেমিক গ্রন্থ নয়, বরং জীবনের এক সজীব অন্বেষণ হিসেবে লেখা এই বই বারোটি বিষয় ও চারটি পর্বে — জীবন, সংস্কৃতি, মিশন এবং নিয়তি — এক দৃঢ় খ্রিস্টীয় বিশ্বদৃষ্টি গড়ে তোলে এবং প্রতিদিনের প্রশ্ন থেকে চিরন্তন প্রশ্নের দিকে এগিয়ে যায়।
বাংলা সংস্করণ · DRM-মুক্ত EPUB — Apple Books, Google Play Books, Kobo বা যেকোনো ই-রিডার অ্যাপে পড়ুন।
Share

After you buy — read it your way
DRM-free files. Download once, open in the reader you already love.